বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
Title :
স্বাগতিক ওমানকে ২৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল বাংলাদেশ সাইফ লজিস্টিকসের সঙ্গে কন্টেইনার কোম্পানী অব বাংলাদেশের চুক্তি সম্পন্ন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের ডাক ‘চিরঞ্জীব মুজিব’পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের তিনটি টিজার উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আদালতের রায়ে ১২ বছর সাত মাস পর নিজের পদ ফিরে পেলেন অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন আখন্দ আজ থেকে জাতীয়ভাবে পালন হবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ রোববার বাগমারায় ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালিত হয়েছে ‘শেখ রাসেল দিবস’ বীর মুক্তিযোদ্ধা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন শাকিব খান অবশেষে সেই গৃহবধূ ও তার স্বামী-সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান আজ শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১২ তারিখে খুলবে টিকার আওতায় আসবে ১২ বছরের শিক্ষার্থীরাও -শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৯ Time View

নিউজ এবিসি প্রতিবেদন :১২ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।  তিনি বলেন, স্কুল-কলেজগুলো খোলার জন্য আমরা আগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেশিরভাগ শিক্ষকই টিকা নিয়েছেন।  এ ছাড়া ১২ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, আগের ঘোষণা অনুযায়ী পরীক্ষা হবে।  অর্থাৎ নভেম্বরের মাঝামাঝি এসএসসি এবং ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

দীর্ঘ ৭৭ সপ্তাহ পর অবশেষে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ কপাট। আবারও শিশু-কিশোরদের কল-কাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠবে দেশের প্রতিটি বিদ্যাপীঠের আঙ্গিনা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় হয়ে উঠবে মুখর। পাঠদান, পরীক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিথস্ক্রিয়া বইবে আনন্দের বন্যা। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে আসবে প্রাণের স্পন্দন।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হবে সব মেডিকেল কলেজ। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কাছাকাছি সময়ে খুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বড় অংশের টিকা সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ সিন্ডিকেটের সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিন-তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। রোববার এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এতে সভাপতিত্ব করবেন। সেখানেই বিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের ১৭মার্চ থেকে দেশের সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি দফায় দফায় বাড়িয়ে তা সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এরপর আর তা বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের।

বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে আরও কমবে। ফলে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে ছুটি রয়েছে তা আর বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে আমরা চাইলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দিতে পারবো। যদি এর মধ্যে আর বড় কোনও সমস্যা না হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার যত দ্রুত সম্ভব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের দ্বিতীয় সেশনে বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি আছে বলে গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।  তিনি  বলেন, গত দুই মাস ধরেই আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রেখেছি। প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম বহু আগে থেকেই চলমান। এখন একাডেমিক কার্যক্রম শুরম্ন করতে আমরা প্রস্তুত।

একই কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম। তিনি গনমাধ্যমকে বলেন, পাঠদান শুরু জন্য আমাদের সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রতি দুইদিন অন্তর অন্তর বিদ্যালয় পরিষ্কার করে রাখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষক প্রতিদিন স্কুলে আসছেন। মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করছেন। আমরাও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অনলাইন সভা করছি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেবার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষা ড. শাহান আরা বেগম গনমাধ্যমকে বলেন, মতিঝিলের প্রধান ক্যাম্পাসসহ তাদের মুগদা ও বনশ্রীর দুটি শাখা ক্যম্পাসও পুরোপুরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাত ধোওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে সাবান, পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রাজধানীর মনিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আমাদের চারটি ক্যাম্পাসই ঝকঝকা-তকতকা করা আছে। বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারব।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে ইতিবাচক মত পরামর্শক কমিটির: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছে কভিড -১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুলতাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার তিনি বলেন, কারিগরি কমিটি মতামত দিয়েছে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কত শতাংশ শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেছেন তার তথ্য চেয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে ইউজিসি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সংক্রান্ত বিগত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বুধবার নির্দেশনা পাঠিয়েছে ইউজিসি। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠাতে হবে। এতে যেসব তথ্য চাওয়া হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কতজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী টিকা নিতে নাম নিবন্ধন করেছেন; কতজন প্রথম ডোজ নিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজের তারিখ পাননি; কতজন টিকা নেননি, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। পাশাপাশি এতে বিদেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তার নাম-পদবিসহ জানাতে বলা হয়।

টানা ১৯ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাখাতে ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার্থীদের শিখন ক্ষতি অপূরণীয়। বিদ্যালয় খোলার পর ঝরে পড়ার হার বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ বেড়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতিও বিপুল। বেসরকারি বহু শিক্ষক পরিবার পথে বসে গেছে। জীবিকার প্রয়োজনে অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছেন। সারাদেশে অন্তত ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেড় বছরের সেজশনজট পাকিয়ে গেছে।

দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এতো লম্বা সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ এর কারণে স্কুল বন্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম দেশ। দীর্ঘ বন্ধের ফলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার চাঁদপুর সদরের মহামায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে  বলেন ।

জিয়াউর রহমানের কবর সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। সবাই জানে সেদিন কীভাবে কবর দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জিয়ার কবর সম্পর্কে যে কথাটি বলেছেন, সেটি সত্যি। এ বিষয়ে আরও সত্য বেরিয়ে আসবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুরের পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ বিশ্বাস, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © newsabcbd  
Design & Developed by: A TO Z IT HOST
minhaz